কালের যাত্রা কখনো মধুর, কখনো আবার নিঠুর! রিয়াল মাদ্রিদ ও অ্যাটলেটিক বিলবাওয়ের ম্যাচের আগে ও পরে কিলিয়ান এমবাপ্পের দুটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টও সেটা স্পষ্ট করে। লা লিগায় গতকাল রিয়াল ম্যাচটি খেলেছে বিলবাওয়ের মাঠে। সে মাঠে খেলতে যাওয়ার আগে এমবাপ্পে ইনস্টাগ্রাম পোস্টে লিখেছিলেন, ‘সান মামেসে যাচ্ছি, ভাবতেই ভালো লাগছে।’
কিন্তু হায়, মানুষ ভাবে এক, আর হয় আরেক। বিলবাওয়ের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে আনন্দ আর থাকেনি এমবাপ্পের মনে। ইনস্টাগ্রাম পোস্টে বুকভাঙা হতাশা নিয়ে লিখেছেন, ‘বাজে ফল। যে ম্যাচে সবকিছুর হিসাব করা হয়, সেটাতে বড় এক ভুল। আমি এর পুরো দায় নিচ্ছি। কঠিন এক মুহূর্ত।’
ম্যাচে কী এমন হয়েছে আর এমবাপ্পেই–বা কী এমন ভুল করেছেন, যেটা তাঁকে এমন হতাশায় ডুবিয়ে দিয়েছে! রিয়ালের সামনে সুযোগ ছিল শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে পয়েন্ট ব্যবধান আরও কমিয়ে নেওয়ার। কিন্তু বিলবাওয়ের মাঠ থেকে ২–১ গোলে হেরে এসেছে তারা। নিঃসন্দেহে বাজে ফল তাদের জন্য। এমবাপ্পের ‘বড় এক ভুল’ হচ্ছে রিয়ালের জন্য ফলটা আরেকটু ভালো করার সুবর্ণ সুযোগটা তিনিই কাজে লাগাতে পারেননি। ৬৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন এমবাপ্পে।
এর আগে গত বুধবার চ্যাম্পিয়নস লিগে লিভারপুলের বিপক্ষেও একইভাবে পেনাল্টি মিস করেছেন রিয়ালের ফরাসি তারকা। টানা দুই ম্যাচে পেনাল্টি মিস—এমবাপ্পেকে নিয়ে চর্চা শুরু হয়ে যাওয়াই স্বাভাবিক। সেই চর্চায় ফুটবলের নানা বিষয় নিয়ে মজা করা ‘ট্রলফুটবল’ নামের ইনস্টাগ্রাম আইডি থেকে এমবাপ্পেকে একটি খেতাব দেওয়া হয়েছে—মিস পেনাল্টি!
এই খেতাব কেন দেওয়া হলো এমবাপ্পেকে, সেটা বুঝতে ছোট্ট দুটি পরিসংখ্যান সামনে আনা যায়। ক্যারিয়ারে এই প্রথম তিনি এক সপ্তাহে দুটি পেনাল্টি মিস করেছেন। আর পিএসজি ও রিয়াল মিলিয়ে এ বছর তাঁর পেনাল্টি মিস হয়েছে মোট চারটি। এক বছরে চারটি পেনাল্টি মিস করার ঘটনাও তাঁর এটাই প্রথম।
এমবাপ্পের এমন খারাপ সময়ে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন রিয়ালের ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ফরাসি তারকার ব্যর্থতাকে আড়াল করতে তিনি ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘আমি একজন খেলোয়াড়ের খেলার বিশ্লেষণ পেনাল্টি দিয়ে করব না। তাকে সময় দিতে হবে। সে ১০টি গোল করেছে এবং নিশ্চিত করেই আরও ভালো করতে পারে। সে কাজও করছে।’

